বাংলাদেশি সিনেমায় মিউজিক্যাল ফিল্মের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে ঈদুল আযহা ২০২৬-এ মুক্তির অপেক্ষায় থাকা Rockstar সিনেমাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে বড় ধরনের প্রত্যাশা। মেগাস্টার Shakib Khan অভিনীত এই সিনেমার টিজার প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। আর সেই আলোচনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে সিনেমাটির সংগীত আয়োজন।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ‘রকস্টার’ সিনেমার সংগীত পরিচালক Jahid Nirob সিনেমাটির মিউজিক, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর (BGM), লাইভ রেকর্ডিং এবং আন্তর্জাতিক মানের সাউন্ড ডিজাইন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
‘রকস্টার’ কেন জাহিদ নিরবের জন্য বিশেষ?
জাহিদ নিরব জানান, ‘রকস্টার’ শুধু একটি সাধারণ সিনেমা নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মিউজিক্যাল জার্নি। তার ভাষায়, এই সিনেমার মূল চ্যালেঞ্জ ছিল একজন শিল্পীর “রকস্টার হয়ে ওঠার গল্প”কে সংগীতের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা।
তিনি বলেন, সিনেমাটিতে একজন রকস্টারের উত্থান, পতন, ভাঙাগড়া এবং আবেগের যাত্রাকে সামনে রেখেই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তৈরি করা হয়েছে। এজন্য প্রতিটি গানের টোন, গিটারের প্লাকিং, ড্রামসের সাউন্ড এবং লাইভ ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
লাইভ রেকর্ডিংয়ে তৈরি হচ্ছে ‘রকস্টার’-এর গান
সাক্ষাৎকারে জাহিদ নিরব জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ গানে ভার্চুয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট বা VST ব্যবহার হলেও ‘রকস্টার’ সিনেমার গানে তারা লাইভ রেকর্ডিংয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।
তার মতে:
- ড্রামস লাইভ রেকর্ড করা হয়েছে
- বেইজ ও গিটার লাইভ বাজানো হয়েছে
- স্ট্রিংস সেকশন লন্ডনে রেকর্ড করা হয়েছে
- মুম্বাইয়ে সেতার ও সারেঙ্গি রেকর্ড করা হয়েছে
এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা সিনেমার সাউন্ডকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
মিউজিক্যাল ফিল্ম হিসেবে ‘রকস্টার’-এর বড় চ্যালেঞ্জ
জাহিদ নিরবের ভাষায়, ‘রকস্টার’ সিনেমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এর বৈচিত্র্যময় মিউজিক্যাল ঘরানা।
তিনি জানান, সিনেমাটিতে শুধুমাত্র রক মিউজিক নয়, বরং—
- ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল
- রক অ্যান্ড রোল
- র্যাপ
- লাভ সং
- মেলোডি
সহ বিভিন্ন জনরার গান রাখা হয়েছে।
এই বহুমাত্রিক সংগীত আয়োজন তাকে নতুনভাবে নিজেকে এক্সপ্লোর করার সুযোগ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিচালক আজমান রুশোর ভিশনের প্রশংসা
সাক্ষাৎকারে পরিচালক Azman Russo-এর কাজের ধরণ নিয়েও কথা বলেন জাহিদ নিরব।
তার মতে, আজমান রুশো খুব স্পষ্টভাবে জানেন তিনি কী চান। অনেক পরিচালক যেখানে নিজের ভিশন পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন না, সেখানে রুশো প্রতিটি সাউন্ড, প্রতিটি আবহ এবং প্রতিটি দৃশ্য নিয়ে অত্যন্ত নির্দিষ্ট।
জাহিদ নিরব বলেন, এই স্পষ্ট পরিকল্পনাই ‘রকস্টার’-এর কাজকে আরও শক্তিশালী করেছে।
‘আমাকে উড়িয়ে দাও’ গান নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা
টিজারে ব্যবহৃত “আমাকে উড়িয়ে দাও” গানটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
সাক্ষাৎকারে জাহিদ নিরব গানটির কিছু অংশ গেয়েও শোনান—
“আমাকে পুড়িয়ে দাও, আমাকে ভাসিয়ে দাও…”
তিনি জানান, গানটির লিরিক লিখেছেন এবং গেয়েছেন Ahmed Hasan Sunny।
এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় গানটির লিরিক নিয়ে যে “কুইজ” ভাইরাল হয়েছিল, সেটিও নাকি একেবারেই কাকতালীয়ভাবে শুরু হয়েছিল একটি ফেসবুক কমেন্ট থেকে।
শাকিব খানকে নতুনভাবে দেখা যাবে?
জাহিদ নিরব মনে করেন, ‘রকস্টার’-এ দর্শকরা Shakib Khan-কে সম্পূর্ণ নতুনভাবে দেখতে পাবেন।
তার ভাষায়, একজন মিউজিশিয়ানের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, কিবোর্ড বাজানোর স্টাইল, অঙ্গভঙ্গি—সবকিছুতেই শাকিব খান আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এত বছর ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখার পেছনে শাকিব খানের অসাধারণ সিনসিয়ারিটি কাজ করেছে, যা তিনি কাছ থেকে দেখেছেন।
বাংলা সিনেমার জন্য বড় স্বপ্ন দেখছেন জাহিদ নিরব
সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি ছিল জাহিদ নিরবের “বিগ স্কেল” মিউজিক প্রোডাকশনের স্বপ্ন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যদি বড় কোনো অ্যাকশন সিনেমা পান, তাহলে স্টেডিয়াম ভাড়া করে একসঙ্গে শত শত সংগীতশিল্পী নিয়ে বিশাল পরিসরে রেকর্ডিং করতে চান।
তার ভাষায়:
“আমি চাই একসাথে হয়তো ৫০০ লোক ড্রামস বাজাচ্ছে—এমন একটা স্কেলে কাজ করতে।”
এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তিনি শুধু সিনেমার গান তৈরি করছেন না; বরং বাংলা চলচ্চিত্রের সাউন্ড ডিজাইনকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার স্বপ্নও দেখছেন।
‘রকস্টার’ কি বদলে দেবে বাংলা সিনেমার মিউজিক ট্রেন্ড?
জাহিদ নিরব মনে করেন, বর্তমানে বাংলা বিনোদন জগৎ একটি “স্বর্ণযুগ” পার করছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীরাও এখন আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন।
তিনি উদাহরণ হিসেবে Tanveer Evan-এর নাম উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাংলাদেশের শিল্পীরা এখন বৈশ্বিক পর্যায়েও আলোচনায় আসছেন।
তার বিশ্বাস, ‘রকস্টার’ সিনেমাও বাংলা সিনেমার সংগীতকে নতুনভাবে উপস্থাপন করবে এবং মাল্টিপ্লেক্স কিংবা সিঙ্গেল স্ক্রিন—সব ধরনের দর্শকের কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে।
শেষ কথা
সবকিছু মিলিয়ে Rockstar শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্রে বড় বাজেটের মিউজিক্যাল অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে যাচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
লাইভ রেকর্ডিং, আন্তর্জাতিক মানের সাউন্ড ডিজাইন, বহুমাত্রিক মিউজিক্যাল আয়োজন এবং Shakib Khan-এর নতুন রূপ—সব মিলিয়ে ‘রকস্টার’ এখন দর্শকদের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমাগুলোর একটি।



Leave a Reply